
সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি থেকে আজ সোমবার আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হচ্ছে। টাকা উত্তোলনের জন্য এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের বিপরীতে মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের দাবি করা হয়েছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিগত হিসাবধারীদের মূল আমানত উত্তোলনের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। রোববার ছিল আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমানত উত্তোলনের আবেদন তুলনামূলক কম হওয়া নবগঠিত ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, তুলনামূলক কমসংখ্যক আমানতকারীর টাকা উত্তোলনের আবেদন ব্যাংকের প্রতি তাদের আস্থার বিষয়টি তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ব্যাংকটির সক্ষমতার ওপরও তাদের আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে।
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনে ১৮ হাজার ৪৬টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ৩২৯ কোটি, দ্বিতীয় দিনে ১৯ হাজার ৬১৩টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ১৬ কোটি, তৃতীয় দিনে ২১ হাজার ৮৬টি আবেদনের বিপরীতে ৯২৩ কোটি এবং চতুর্থ দিনে ১৫ হাজার ৪৭৬টি আবেদনের বিপরীতে ৬৫৭ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করা হয়েছে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, যেসব আমানতকারী তাঁদের অর্থ ব্যাংকে রেখে দেবেন, তাঁরা নিজ নিজ চুক্তিতে নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন। ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে প্রচলিত নিয়ম ও বিদ্যমান বিধিবিধান অনুযায়ী আমানতকারীরা মুনাফাসহ যেকোনো পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলন করতে পারবেন।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগ আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আল-ওয়াদিয়া চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব এবং বিভিন্ন মেয়াদি হিসাব—এমটিডিআর ও ডিপিএসসহ—থেকে গ্রাহকেরা তাঁদের মূল আমানত তুলে নিতে পারবেন। তবে হিসাব বন্ধ না করে চালু রাখলে গ্রাহকেরা চুক্তি অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত হারে মুনাফা পেতে থাকবেন। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় চালু হলে মুনাফাসহ যেকোনো পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুযোগ মিলবে।